শুরুটা ২০০৯ এর এপ্রিলে। বহু জিদ করে কম্পিউটার কেনা হল আমার জন্য। তারপর থেকে কম্পিউটার নিয়ে ঘাটাঘাটি, শেয়ারিং, সার্ফিং। শুরুতো অবশ্যই উইন্ডোজ দিয়ে। কদিন পর পর স্লো হয়ে যাওয়াটা বিরক্তিকর ছিল আমার জন্য। তারপর এইচএসসি, অ্যাডমিশন ইত্যাদি নিয়ে ব্যাস্ত(!) থাকায় কম্পিউটার আরো বেশী ঘাটাঘাটি করা হত। তখন ২০১০ সাল। একদিন হঠাৎ করেই অভ্রনীল (আদনান কাইয়ুম) এর "
বন্টু মিন্টুর গুষ্ঠি কিলাই!" লেখাটি পড়ি। লেখাটি প্রচন্ড ভালো লাগে আমার। উইনডোজের বাইরে আরেক ধরনের জগৎ আছে তা ভাবতেই ভাল লাগে। তো করলাম কি বাজার থেকে ফিডোরা ১১ কিনে আনলাম। দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করায় সে ভাব নিয়ে বললো রেড হ্যাটই ভাল। তবুও আমি ফিডোরার কভার আর স্ক্রিনশট দেখে মুগ্ধ হয়ে ওটাই নিলাম। সাথে আড়চোখে দেখলাম দোকানদার আমাকে বুদ্ধু ভাবলো কিনা!
বাসায় এসে বার কয়েক রিডমি পড়েও বের করতে পারলাম না লাইভ সিডি, মাউন্ট কি জিনিস! পরে ফেব্রুয়ারীর দিকে বাংলা ব্লগ ঘাটাঘাটি করে জানলাম উবুন্টু সম্পর্কে, ক্যানোনিকালের শিপ ইট অর্ডার দিলাম। পাইনি আজো। যাহোক দ্রুতগতির ইন্টারনেট (115 কেবিপিএস জিপি মডেম থেকে 256 বাংলালায়ন) পাওয়ার পর রাত জেগে নামিয়ে ফেললাম আইএসও। পরদিন ইন্সটল করতে যেয়ে হার্ডডিস্ক সুন্দর করে মুছে ফেললাম (এই ঘটনা বেধ করি ৯৯ ভাগ ব্যবহারকারীর হয়)। জেদ চেপে যাওয়ার পর দেখি মডেম চলেনা! (বিলাই মডেম)। রাগ করে ফেলে রাখলাম।
২০১১ এর ২২ জানুয়ারী ল্যাপটপ কিনে ফেলি। এদিকে পাইরেসী সম্পর্কে বুঝতে শিখছি, জানছি। একদিন রিং ভাইয়ের সাথে কথা হয় ফোনে, উনি আমাকে অনেক কিছুই বুঝালেন যে আমরা কিভাবে আইএসপি দিয়ে প্রতারিত হচ্ছি। তারপর কিছুদিন পর উবুন্টু ১১.০৪ বের হয় এবং পরে আসে লিনাক্স মিন্ট ১১। ওই দুটাই নিয়মিত ব্যবহার করতাম, তাও উইন্ডোজ থেকে ICS করে।
আস্তে আস্তে ডিভাইস মডিউল, ইউএসবি মডেসুইচ ইত্যাদি নিয়ে ঘাটতে থাকি। বহুবার কার্নেল মডিউলটা বিল্ড করার চেষ্টা করি। কিছুতেই কিছু হয়না। এভাবে কয়েকমাস টেনে টুনে চলার পর অক্টোবরের শেষে অনিরুদ্ধের সাথে পরিচয়। ও কাজটা করে দেওয়ার পর আমি এখন নিয়মিত এবং শুধুমাত্র লিনাক্স ব্যবহারকারী।
পছন্দের ডিস্ট্রো
- ওপেনসুসে, প্রথমে লিনাক্স মিন্ট ছিল, তবে স্ট্যাবল না
- উবুন্টু
অপছন্দের ডিস্ট্রো
পছন্দের ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট
অপছন্দের ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট
জিনোম ৩
সবচেয়ে যা ভাল লাগে
মুক্তি, স্বাধীনতা, আমি যা চাই তাইই করতে পারি। বিশেষ করে আমার প্রোগ্রামিং ও শেখার কাজে লিনাক্স সবচেয়ে বড় অবদানকারী।